একটু করে বড় হতেই থাকে এই কালীর মূর্তি প্রত্যেক বছর । না না গল্প না এটা একদম খাটি সত্য একটু করে বড় হতেই থাকে এই কালীর মূর্তি প্রত্যেক বছর । না না গল্প না এটা একদম খাটি সত্য

0
1465

উত্‍সবে মেতেছে মালদহের বুলবুলচণ্ডী উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্‍ এই কালী পুজোকে ঘিরে। বুলবুলচণ্ডীতে বড় কালি পুজোর দীর্ঘ দিনের। এখানে প্রায় ৪৮ তেকে ৫০ ফিটের কালি প্রতিমা তৈরি হয়। তবে এবারই প্রথম নয়।  এবার এখানের পুজো ৬৯ বছরে পড়ল। যেমন ভাবনা আর সঙ্গে সঙ্গে শুরু কালি পুজো। পুজোর সূচনা করে রাজ রোষে পড়েন তাঁরা। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৪৯ সালে এখানে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নদীর ধারে বসে মদ্যপান করছিল তখনই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেয় কালি পুজো করবে।

কালি পুজো এক বছর করার পর তাঁরা আরও একটি সিদ্ধান্ত নেয় মা কালি কোনও মতেই ছোট থাকবে না।

স্থানীয় জমিদার এই পুজোর বিরোধিতা করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের আবেগে পিছু হঠতে বাধ্য হন তাঁরাও। এরপরেই থেকেই শুরু হয় মায়ের যাত্রা।  যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। সেই মতো প্রতি বছরই এক হাত করে বৃদ্ধি শুরু।

বাড়তে বাড়তে কালী বিশালাকৃতি রূপ নেয়। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে এলাকার উন্নতিও হয়। চারিধারে বিদ্যুতায়ন হয়। বড় বড় বাড়ি হয়। দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এরফলে এত বিশালাকার কালীমাকে নদীতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তে শুরু করল। এদিকে যুগের সঙ্গে সঙ্গে পুজোও চলে আসল নতুন প্রজন্মের হাতে। সুতরাং, প্রতিমাকে ৪৮ থেকে ৫০ ফিটের মধ্যেই রাখা শুরু হল। তবে রীতি মেনে এখনও সামান্য করে মাকে বৃদ্ধি করা হয়। আরও একটি রীতি এই কালীর বৈশিষ্ঠ তা হল এখানে পাঠা বলির রীতি নেই। কেউ যদি কোনও ভাবে মানতও করে তবে সেখানে তা উত্‍সর্গ করে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে বলি দেওয়া হয়।

এবারও বিশালাকার এই প্রতিমা তৈরি হয়েছে এবং তার জন্য প্রায় ১৩০টি বাঁশ, পঞ্চাশ কেজি দড়ি, কাঁটা ৫০ কেজি, খড়ও লাগে তিন কাউন এছাড়া প্রচুর সামগ্রী লাগে ৫০ ফিটের প্রতিমা তৈরি করতে। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা লাগে প্রতিমা তৈরি করতেই। স্থায়ী মণ্ডপেই গড়া হয় মা কালির মূর্তি। উদ্যোক্তাদের দাবি উত্তরবঙ্গের মধ্যে সর্ববৃহত্‍ কালি পুজো হয় এখানে। কোনও থিমের চমক বা মণ্ডপের বৈচিত্র্য নয়। প্রতিমার সৌন্দর্য ও পুজোর নিষ্ঠায় এখানকার বিশেষত্ব। প্রথমেই বারো হাতের কালী দিয়ে সূচনা হলেও প্রতিবছর রীতি মেনে উচ্চতায় বাড়ানো হয় প্রতিমা।

তবে, বর্তমানে স্থায়ী মণ্ডপ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েকবছর ধরে নাম মাত্র বাড়ানো হচ্ছে উচ্ছতায়। মালদহ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে প্রতিমা দেখতে আসেন অসংখ্য মানুষ। পুজো উপলক্ষে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বড় মেলাও বসে এখানে। বিসর্জন পর্বও আকর্ষনীয়। মণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্বে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন হয়। বাঁশের মাচা করে টেনে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় একটি জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন হয়। বিসর্জন পর্বে সমাবেত হন কয়েক হাজার মানুষ। বিসর্জনে থাকে আতসবাজির প্রদর্শনীও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here